সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬, ০১:১২ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ বরিশালে লজিক ডিবেটিং ক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি হাসিবুর, সম্পাদক সিয়াম বাড়ইকান্দি পবিত্র ঈদুল-আযহা উপলক্ষে নাইট প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বিবাহিত বনাম অবিবাহিত খেলা অনুষ্ঠিত গৌরনদীতে জিয়াউর রহমান’র শাহদাত বার্ষিকী পালন গাঁজা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করায় ফেসবুকে হুমকি থানায় মামলার আবেদন। তজুমদ্দিনে অস্ত্র, কার্তুজ ও রকেট ফ্লেয়ারসহ কুখ্যাত ডাকাত হেজু গ্রেফতার। বরিশালে প্রেমিকের বাসায় গিয়ে খুন হলেন প্রেমিকা উজিরপুরে মামলার এক বছর: আসামি গ্রেফতারে পুলিশের বিরুদ্ধে অনীহার অভিযোগ ইউএনও ও সাংবাদিকের যৌথ উদ্যোগে মাথা গোঁজার ঠাঁই ও কর্মসংস্থান পেলেন অসহায় মাহিনুর বাকেরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধে হামলায় যুবকের মৃত্যু বরিশালের জেল খাল গিলে খাচ্ছে বহুতলা ভবন: নেপথ্যে সিটি কর্পোরেশনের ‘দুর্নীতিবাজ’ চক্র! পৌরসভার ময়লা পরিষ্কার করে সংসার চালান বিধবা তাহমিনা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন সম্পন্ন ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ে নারীর অংশ বাড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে জ্বালানিবাহী ৮ জাহাজ আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি আসামির
বরিশাল অতিরিক্ত ক্লাসের নামে চলছে কোচিং বানিজ্য

বরিশাল অতিরিক্ত ক্লাসের নামে চলছে কোচিং বানিজ্য

অানোয়ার হোসেন।। বরিশাল সিটি কপোরেশন ২৬নং ওয়ার্ডে ১১৪ নং হরিনাফুলিয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রকাশ্যেই শিক্ষক সাইফুল ইসলামদ্বারা স্কুলে বসেই চলছে অতিরিক্ত ক্লাসের নামে রমরমা কোচিং বানিজ্য। সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে কোচিং বানিজ্য চললেও দেখার কেহ নেই।
অবৈধ কোচিং বানিজ্যের ফাঁদের পরে অসহায় হয়ে পড়েছে এখনকার দরিদ্র অভিভাবকরা। বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের জিম্মী করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা নিজেই গড়ে তুলেছেন অবৈধ কোচিং সেন্টার।
সরজমিনে গিয়ে স্কুলের সামনে এতিমের মতো বসে থাকা অবস্থায় দেখা যায়, শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের। স্কুলে সততা স্টোর অাছে কোচিং বাণিজ্যর রুমের ব্যবস্থা আছে নেই শুধু অভিভাবকদের বসার স্থান। স্কুলে তৃতীয় ৪র্থ ও পঞ্চম শ্রেনির ছাত্র ছাত্রীদের একটি ব্যাচ করে কোচিং করানো হচ্ছে। তবে শিক্ষার্থীর নিজ প্রতিষ্ঠানের। বিদ্যালয়ের শুরুর আগে সকাল সাতটা থেকে নয়টা মধ্যেই কোচিং বানিজ্য শেষ। যেনও সরকারি দপ্তরের কোনো প্রতিনিধিরা স্কুলে উপস্থিত হয়ে কোচিং বাণিজ্য দেখতে না পায়। তাই শিক্ষকরা কৌশল অবলম্বন করে সকাল অথবা রাতে সময়কে।কোচিং এ আসা একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানাযায়, তারা বিদ্যালয়ের প্রতিটি বিষয়ের উপর কোচিং করছে। ৫ম শ্রেনির শিক্ষার্থীদের বৃত্তির জন্যে অতিরিক্ত পড়াশোনার নাম করে শিক্ষকরা অভিনব পদ্ধতি হাতিয়ে নিচ্ছেন অসহায় শিক্ষার্থীর অভিভাবকের নিকট থেকে ৫শ থেকে ৮শ টাকা বলেও অভিযোগ রয়েছে। ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীতে ২৬ জন ৪র্থ শ্রেনীতে ১৫ জন ও পঞ্চম শ্রেনীতে ২০জন। শ্রেনী প্রতি ৩য় ৩০০টাকা ৪র্থ ৪০০টাকা ৫ম ৫০০টাকা করে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে প্রতিমাসে প্রায় ২৩৮০০ (তেঁইশ হাজার আটশো) টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। কোচিং এর মধ্যে ও বিভিন্ন পরীক্ষার অযুহাত দেখিয়েও উত্তোলন করা হচ্ছে আরো অতিরিক্ত টাকা।
প্রাইভেট বা কোচিং পড়ানো সরকারি ভাবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিধি নিষেধ থাকলেও সে আইনের তোয়াক্কা না করেই অবৈধ ভাবে চালাচ্ছেন কোচিং সেন্টার প্রধান শিক্ষকা ফারজানা খাতুনের নেতৃত্বে সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম।
আরও দেখাযায়, প্রতিদিন বিদ্যালয় ছুটি হচ্ছে নিদিষ্ট সময়ের আগেই। সহকারী শিক্ষকের বেপরোয়া কোচিং বানিজ্যের কাছে অন্যান্য শিক্ষকরা ও বিদ্যালয়ে সঠিকভাবে পাঠদান করতে ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আরও জানাযায়, ৫ম শ্রেনির শিক্ষার্থীদের বাধ্য করা হয় কোচিং করার জন্যে। নাম প্রকাশে একাধিক অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ে সঠিকভাবে পড়াশোনা করানো হলে প্রাইভেট বা কোচিং এর কোনো প্রয়োজন হতে না। বিদ্যালয়ের পাশাপাশি এখন প্রতিমাসেই দিতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোচিং নিষিদ্ধ ওই পরিপত্রে ভিত্তিতে আরও জানাযায়, সরকারি ভাবে কোনো শিক্ষক তাঁর নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে কোচিং করাতে বা প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। এমনকি শিক্ষকেরা বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টারেও পড়াতে পারবেন না। মন্ত্রণালয়।
অন্যদিকে নীতিমালা লঙ্ঘন করলে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে অসদাচরণের দায়ে সরকারের শৃঙ্খলা ও আপিল বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিধান রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী অভিভাবকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে পারবেন। অতিরিক্ত ক্লাসের ক্ষেত্রে প্রতি বিষয়ে মাসে কমপক্ষে ১২টি ক্লাস নিতে হবে। কোনোভাবেই এর কম নেওয়া যাবে না, প্রয়োজনে বেশি ক্লাস নেওয়া যাবে। তবে
কোনো শিক্ষক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে ওঠা কোনো কোচিং সেন্টারে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকতে পারবেন না। তাঁরা শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ে উৎসাহিত বা বাধ্য করতে পারবেন না। এমনকি এ বিষয়ে কোনো প্রচার চালাতে পারবেন না।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি কোচিং-বাণিজ্য রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোচিং-বাণিজ্য বন্ধে প্রয়োজনীয় প্রচার এবং অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এ ছাড়া কোচিং-বাণিজ্য বন্ধে প্রণীত নীতিমালার প্রয়োগ এবং এ ধরনের কাজ নিরুৎসাহিত করার জন্য সরকার সচেতনতা বৃদ্ধিসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। নীতিমালা না মানলে শাস্তি: এমপিওভুক্ত শিক্ষক কোচিং-বাণিজ্যে জড়িত থাকলে তাঁর এমপিও স্থগিত বা বাতিল হবে। ওই শিক্ষককে সাময়িক বা চূড়ান্ত বরখাস্ত করারও নির্দেশনাও রয়েছে।
কোচিং-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পরিষদ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে সরকার পরিচালনা পরিষদ ভেঙে দেওয়াসহ প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি বা অধিভুক্তি বাতিল করতে পারবে।
সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক কোচিং-বাণিজ্যে জড়িত থাকলে তা পেশাগত অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে এবং সে জন্য তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা আপিল বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। তবে প্রাইভেট ও কোচিং অনিয়মের বিষয় প্রধান শিক্ষকা মোসাম্মৎ ফারজানা খাতুন প্রতিনিধির কাছে অসিকার গেলেও প্রমান দেওয়ার পরে আর কোন সদুত্তর দেননি তিনি। ওই স্কুলের কোচিং বানিজ্য বিষয় কমিটির সভাপতি মাহমুদ চৌধুরী প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন স্কুলে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার কথা কিন্তু তারা কোচিং বানিজ্য তৈরি করছে এমনকি অতিরিক্ত টাকা অাদায় করছে সে বিষয় আমার জানা নেই। তবে আমি বিতর্কিত স্কুল কমিটির সভাপতি হতে চাই না।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © অনুসন্ধান24 -২০১৯